সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৪৬ পিএম
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই প্রকল্পে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিনিয়োগ ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উদ্যোগ আমাদের সেই যাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলো।
এই প্রকল্প শুধু আনোয়ারা উপজেলা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিগত দিনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল ভয়াবহ বিপর্যস্ত। অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। টাকা ছাপানোর মাধ্যমে অর্থনীতিকে ডেভেলপ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতিকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। বিনিয়োগ নির্ভর করে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে চাই। আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিকের কথা বলছি, ২০৩৪ সালের মধ্যে ওই পর্যন্ত যেতে হলে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। বিশেষ করে বেসরকারি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে সম্পদ বাড়বে এবং রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও বৃদ্ধি পাবে বলে অভিমত দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল হলে অর্থনীতি চলবে না।’
ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি সব বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে বিনিয়োগ হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় আজ শুধু একটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের শুরু হচ্ছে না। এতে বাংলাদেশে শিল্প রূপান্তরের নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় গৃহীত উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল প্রমুখ।
বেজাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অর্থায়ন–সংক্রান্ত নানা বাধা পার করে প্রায় ৮০০ একর জায়গার ওপর যাত্রা শুরু করল এই শিল্পাঞ্চল। প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) উদ্যোগের মাধ্যমে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে নানা জটিলতায় উদ্যোগটি থমকে যায়। এরপর অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজের জন্য চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি। এরপর ২০২২ সালে চীন সরকারের পক্ষ থেকে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করা হয়। কিন্তু সরকারি ক্রয়নীতি অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডেভেলপার—দুই ভূমিকায় কাজ করতে পারে না। ফলে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সেটিও পরে আটকে যায়। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি নতুন গতি পায়।
আরটিভি/এসএইচএম