বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৫৮ পিএম
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) যশোর শহরের ঝুমঝুমপর এলাকা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস হয়ে দাড়িয়েছে সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। বছর দুয়েক আগে হঠাৎ আলোচনায় এসে এরইমধ্যে যার নাম জড়িয়েছে অন্তত সাত হত্যাকান্ডে। বিদেশে থাকা শীর্ষসন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজান পর্যন্ত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তার।
কে এই ইমন
চট্টগ্রামে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে প্রকাশ্যে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুরের পর আলোচনায় সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নাম। কে এই ডেভিড ইমন, কী তার পরিচয়?
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের নাম। এরপর গত দুই বছরে কমবেশি সাত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িয়েছে যার নাম। গত বছরের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় প্রাইভেটকারে গুলিতে খুন দুই জন। যে হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ডেভিড ইমন। তার মাত্র দুই মাস না যেতেই ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে গুলি করে খুন করা হয় আরেক সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে। অভিযোগ, এই খুনেও সরাসরি জড়িত ছিল ইমন।
একই বছরের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-আট আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিতে নিহত হন শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। এ ঘটনায়ও অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ইমন।
তথ্য বলছে, বিদেশে থাকা চট্টগ্রামের বর্তমান শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে চট্টগ্রামে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ করছে ডেভিড ইমন ও রায়হান আলম। যাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রাম নগরী থেকে শুরু করে হাটহাজারী রাউজানের ব্যবসায়ীরাও।
গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপ কলে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকার ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট-ডিডিএন এর মালিকের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসে দশলাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন। টাকার জন্য দুইদিন সময় দেওয়া হয় ওই প্রতিষ্ঠানটিকে। সেই কথোপকথনে- আমি ডেভিড ইমন বলতেছি, আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনারের কাছে জিজ্ঞেস কইরেন, এমন কথাও বলতে শুনা যায় তাকে। এ ঘটনার দুই দিনের মাথায় দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে ডিডিএন অফিসে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
অফিসের কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুরের পাশাপাশি লুট করা হয় ক্যাশে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ৩৫ লাখ টাকা। এঘটনার পর আলাদা অভিযানে পুলিশ ও র্যাব ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করলেও ধরাছোয়ার বাইরে ছিলো ডেভিড ইমন। গত জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের করা ৩৪০ সন্ত্রাসী- দুস্কৃতিকারীর তালিকায় ৩৪ নাম্বারে আছে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের নাম।
অভিযোগ আছে, গত দেড়মাসেই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অন্তত দেড় কোটি টাকা চাঁদা হাতিয়ে নিয়েছে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীরা।
চট্টগ্রামের এমন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী পুলিশের জালে ধরা পড়ায় এখন স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা। ডেভিড ইমন ধরা পড়ার খবরে ভাংচুরের শিকার ডিডিএন এর পরিচালক আদিল বিন মামুন বলেন, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির। তবে, এই চিহ্নিত অপরাধী যেন আইনের ফাঁক গলে আবার বের না হতে পারে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক বলেন, ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার সন্ত্রাসীদের জন্য বড় বার্তা। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি অনেক কমে আসবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সন্ত্রাসীদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
আরটিভি/এসএস