বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০১:১১ পিএম
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর চরম আর্থিক অনটন—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি কক্সবাজারের রামুর তিন বোনের পড়াশোনার অদম্য স্পৃহাকে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাটির ঘর ধসে গেলেও ছেঁড়া পলিথিনের নিচে বসেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে উম্মে হাবিবা, উম্মে সালমা ও জান্নাতুল মাওয়া।
কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের খাসজমিতে বাস করা এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা দিল মোহাম্মদও (৬৭) পাঁচ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে অটোরিকশা চালানো বন্ধ করতে বাধ্য হন।

অন্যদিকে মা রোকেয়া বেগম (৪০) জন্মগতভাবেই এক চোখে দৃষ্টিহীন, রোদ উঠলে অন্য চোখেও ঝাপসা দেখেন।
সম্প্রতি বাকখালী নদীর পানি উপচে পুরো রামু এলাকা প্লাবিত হলে পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়ে তাদের মাটির তৈরি বসতঘরের তিন পাশের দেয়াল। বর্তমানে মাথার ওপর ছেঁড়া পলিথিন টাঙিয়ে ভেজা জামাকাপড় ও বই-খাতা আঁকড়ে ধরে দিন পার করছে পরিবারটি। বৃষ্টি থামলেই বাড়ির উঠানে পলিথিন বিছিয়ে বই নিয়ে বসে পড়ে তিন বোন। উম্মে হাবিবা মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে, উম্মে সালমা পঞ্চম শ্রেণিতে এবং জান্নাতুল মাওয়া নার্সারিতে পড়ে। তাদের ছোট আরও একটি চার বছরের বোন রয়েছে।
সন্তানদের আগ্রহ সত্ত্বেও অভাবের কারণে ঠিকমতো বই কিনে দিতে না পারায় বুকফাটা কান্না আর অপরাধবোধ গ্রাস করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা রোকেয়া বেগমকে। পঙ্গু বাবা দিল মোহাম্মদও সন্তানের এমন কষ্টে নিজেকে অসহায় বোধ করছেন।
জানতে চাইলে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, রোকেয়া বেগমের পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা, নিরাপদ বাসস্থান ও মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।
আরটিভি/এসএস