রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১১:০৫ এএম
সিলেটে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে ধূমপান ও আড্ডা দিতে দিতে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন এক শিক্ষক। এ সময় সেখান থেকে প্রায় এক বস্তা খাতা জব্দ করে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করা হয়। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন নিজে উপস্থিত থেকে এই খাতাগুলো জব্দ করেন।
অনিয়মে জড়িত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন ছাত্র।
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রভাষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে বসে খাতা দেখছিলেন। এ সময় সঙ্গে থাকা বস্তা থেকে খাতা বের করে তার অন্য দুই বন্ধুও একই কাজ করছিলেন। তাদের সঙ্গে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সহসভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে সিগারেট ও চা খাওয়ার পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখেন বলে জানান আরেক প্রত্যক্ষদর্শী। লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণী পরীক্ষার খাতা কীভাবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে পরীক্ষকের বাইরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে এলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
খাতা জব্দের সময় শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন কৈফিয়ত চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল বলেন, তাড়াহুড়ো থাকায় বন্ধুদের নিয়ে খাতা না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।
তবে সঙ্গে থাকা শাবিপ্রবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেত্রী আইরিন লিনজা দাবি করেন, তিনি খাতা মূল্যায়নে অংশ নেননি। ইকবাল তার ব্যাচমেট ও বন্ধু, তাই শুধু সঙ্গে ছিলেন।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেননি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। পরবর্তী সময়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় যান।
এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব গণমাধ্যমকে বলেন, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আরটিভি/আইএম