রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৩৫ এএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার কোষাধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইসেন্স পরিদর্শক) মো. ফজলুল করিম ওরফে খসরুর বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে বিদেশে অবস্থান, জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহাল, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং বিধিবহির্ভূতভাবে পূর্ণ বেতন-ভাতা গ্রহণসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে মো. আশিকুর রহমান স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে কসবা পৌরসভায় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন মো. ফজলুল করিম। এরপর থেকে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে কোষাধ্যক্ষের পাশাপাশি লাইসেন্স পরিদর্শকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাকরিরত অবস্থায় পূর্বানুমতি ছাড়াই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় যান। পরে ২০১০ সালের মার্চে দেশে ফিরে ভুয়া মেডিকেল সনদ দাখিলসহ অনিয়মের মাধ্যমে পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন এবং অনুপস্থিত থাকা এক বছরের বকেয়া বেতন-ভাতাও একসঙ্গে উত্তোলন করেন। যা সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল।
এ ছাড়া কসবা পৌরসভায় কর্মরত লাইসেন্স পরিদর্শকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অন্যত্র বদলিতে বাধ্য করার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সর্বশেষ লাইসেন্স পরিদর্শক রাকিবুল খানকেও চট্টগ্রামে বদলি হয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করা হলেও সেই অর্থের একটি অংশ পৌরসভার রাজস্ব তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হতো। অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্য সেবাও দেওয়া হতো না।
অভিযোগকারীর দাবি, এসব অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে কসবা নতুন বাজারে ‘মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং কসবা পুরাতন বাজারে ‘টেস্টি বাইট’ নামে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন মো. ফজলুল করিম।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও সাময়িক বরখাস্ত না হয়ে পূর্ণ বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
অভিযোগকারী আশিকুর রহমান অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে মো. ফজলুল করিমকে কসবা পৌরসভা থেকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ফজলুল করিম ওরফে খসরু সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দক্ষিণ কোরিয়া যাইনি। আমি তিন মাস অসুস্থতাজনিত ছুটিতে ছিলাম। এ ছাড়া যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আমার নয়; আমার ভগ্নিপতির মালিকানাধীন।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কসবা পৌর প্রশাসক ছামিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/আইএম