images

দেশজুড়ে

ফার্মেসিতে কাঁধের ক্ষত দেখিয়ে চিকিৎসা নিল হনুমান

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ১১:০৪ এএম

ব্যথার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে কাঁধের ক্ষত দেখিয়ে যশোরের কেশবপুরে একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিয়েছে বিরল প্রজাতির একটি কালোমুখ হনুমান। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড় সংলগ্ন আলফা মেডিক্যাল স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হনুমানটিকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাদ্যের সন্ধানে বের হওয়া হনুমানটি কাঁধে আঘাত নিয়ে ত্রিমোহিনী মোড় এলাকায় এসে একটি দোকানে ঢোকে। স্থানীয়রা তাকে খাবার দিলেও প্রথমে কিছুই খাচ্ছিল না। পরে সাংবাদিক এম এ রহমান একটি রুটি দিলে হনুমানটি তার কাঁধে উঠে হাত দিয়ে নিজের ক্ষতস্থান দেখানোর চেষ্টা করে।

বিষয়টি বুঝতে পেরে এম এ রহমান আহত হনুমানটিকে পাশের আলফা মেডিক্যাল স্টোরে নিয়ে যান। সেখানে ওষুধ কিনে তার কাঁধের ক্ষতস্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসার পর হনুমানটি কিছুটা স্বাভাবিক বোধ করলে সেখান থেকে চলে যায়।

সাংবাদিক এম এ রহমান বলেন, আমি হনুমানটিকে রুটি দিয়ে বলি, খাও, তোমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। এরপরই সে আমার ঘাড়ে উঠে তার কাঁধের ক্ষতস্থান দেখাতে থাকে। পরে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিই।

আরও পড়ুন
JHALOKATHI

রাতে খোলা ভূমি অফিস, টাকার বিনিময়ে সেবার অভিযোগ

তিনি আরও বলেন, কেশবপুরের কালোমুখ হনুমান সংরক্ষণে সরকারিভাবে যে খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে অনেক সময় তারা আহত হয়। বরাদ্দ বাড়ানো হলে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী কালোমুখ হনুমান সংরক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে অসুস্থ প্রাণীটিকে সাহায্য করায় সাংবাদিক এম এ রহমানের প্রশংসা করেন বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা। 

তিনি জানান, দেশের তিন প্রজাতির হনুমানের দেখা মেলে যার মধ্যে একটি হলো কালোমুখ হনুমানের। এই প্রজাতির হনুমান প্রায় ২০০ বছর ধরে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। বুনো পরিবেশে এদের গড় আয়ু ১৮-৩০ বছর। সাধারণত জুলাই-অক্টোবর  বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এদের প্রজননকাল। স্ত্রী হনুমান ২০০ থেকে ২১২ দিন গর্ভধারণের পর সাধারণত ১/২টি বাচ্চা প্রসব করে। হনুমানের এই প্রজাতিটি গাছের কচিপাতা, শাকসবজি ও ফলমূল, ফুল খায়। তবে বসতবাড়ির কাছাকাছি বসবাস করায় মানুষের খাবারেও এরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন)-২০১২ অনুযায়ী হনুমানের এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরটিভি/এসকে