মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৫০ পিএম
ঝিনাইদহ শহরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার আধুনিক পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণ প্রকল্পটি আইনি জটিলতায় সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে চলছে মাছ চাষ। অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা লোহার রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীতে ধরেছে মরিচা। এতে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৬৭ শতক জমির ওপর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)-এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। পরিকল্পনায় ছিল আধুনিক শপিং স্পেসের পাশাপাশি কিডস জোন, নারী উদ্যোক্তা কর্নার, উদ্যোক্তা কর্নার, মিনি আইটি পার্ক, জিমনেশিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার এবং আধুনিক গাড়ি পার্কিংসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা।
কিন্তু প্রকল্প শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই আইনি জটিলতা দেখা দেয়। যেখানে সুপারমার্কেটটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে আগে একটি শিশু পার্ক ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এরপর ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ আর শুরু হয়নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে স্থানীয়ভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। চারপাশে আগাছা জন্মেছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা লোহার রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন রোদ, বৃষ্টি ও পানির সংস্পর্শে থাকায় মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। এতে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঝিনাইদহের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। জেলার শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী আধুনিক পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান এবং শহরের নাগরিক সেবার মানও বাড়বে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপ্পা বলেন, এই মার্কেট চালু হলে ঝিনাইদহের ব্যবসার চিত্রই বদলে যেত। অথচ এখন সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে নির্মাণকাজ শেষ করা উচিত।
শহরের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, প্রতিদিন দেখছি কোটি টাকার স্থাপনা নষ্ট হচ্ছে। রডে মরিচা ধরছে, বেজমেন্টে পানি জমে মাছ চাষ হচ্ছে। এত বড় একটি সরকারি প্রকল্প এভাবে পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সচেতন নাগরিক সুজন বিপ্লব বলেন, এটি শুধু একটি ভবনের কাজ বন্ধ থাকার বিষয় নয়; দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও আটকে আছে। দ্রুত আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি করে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, আদালতে চলমান মামলার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। আইনি জটিলতা নিরসনে পৌরসভার নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী কাজ করছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী। আদালতের নির্দেশনা পেলেই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এ প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। এতে একদিকে যেমন সরকারি বিনিয়োগ সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে ঝিনাইদহ শহর পাবে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যা জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/টিআর