মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৭:৪৬ পিএম
রংপুরের পীরগাছায় নাতিকে দেখতে গিয়ে এক নারী সাবেক বেয়াই-বেয়াইন ও ছেলের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে ঘরে আটকে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং সঙ্গে থাকা সোনা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের পঞ্চানন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ধলি খাতুন (৪৫) উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের দিনমজুর আহসান উদ্দিনের স্ত্রী।
অভিযুক্তরা হলেন পঞ্চানন গ্রামের আবু কাশেম মিয়া, তার স্ত্রী ছাফিয়া বেগম এবং তাদের মেয়ে কেয়া মনি—যিনি ভুক্তভোগীর ছেলের সাবেক স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছর আগে ধলি খাতুনের ছেলে ইয়ামিনের সঙ্গে কেয়া মনির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রায়হান (২) নামে একটি ছেলে রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় দুই মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সোমবার দুপুরে নাতিকে দেখতে ধলি খাতুন সাবেক বেয়াইয়ের বাড়িতে গেলে তাকে ঘরের ভেতর আটকে মারধর করা হয়। লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সঙ্গে থাকা সোনা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবু কাশেম মিয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার দাবি, ধলি খাতুন কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘুমন্ত নাতিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার স্ত্রী ও মেয়ে বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএস