মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৫৯ পিএম
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ১৭৮ নম্বর উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, গলাচিপার ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী মো. আলমগীর হোসেনকে ৩ আগস্ট থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন এবং ৩ আগস্ট থেকেই এ আদেশ কার্যকর হবে। এ আদেশের অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় উপপরিচালক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটি বাসায় নেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রীকে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
বরখাস্তের বিষয়ে মো. আলমগীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন। পরে স্ত্রী ও সন্তানের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তার দাবি, এ ঘটনায় তার ও তার পরিবারের মানহানি করা হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশ অনুযায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এদিকে বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষককে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আমি আবার তোমাদের মাঝে ফিরে আসব। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আরটিভি/এমএইচজে