images

দেশজুড়ে

শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ইমাম আটক

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ১০:৪৪ এএম

শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নে মক্তবে পড়তে যাওয়া এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এনামুল হক (৪৬) নামে এক মসজিদের ইমামকে আটক করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইউনিয়নের বাইশরশি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনামুল হক প্রায় এক দশক ধরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের বাইশরশি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি রাজগঞ্জ ইসলামিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেন।

মঙ্গলবার সকালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রী ও তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাই মক্তবে গেলে পাঠদানের একপর্যায়ে ছোট ভাইকে পানি আনতে বাইরে পাঠানো হয়। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ইমামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা জানান, সকালে তার মেয়ে ও ছেলে মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। একপর্যায়ে তার ছেলেকে বাইরে পাঠিয়ে মেয়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইলে তা স্বীকারও করেছিলেন বলে দাবি করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের ছেলে এহসানুল হক কাউসার। তিনি বলেন, আমার বাবাকে সবাই চেনে আমার বাবা একজন সৎ ও ভালো মানুষ। ওই শিশু পড়া না পারায় বাবা তাকে সামান্য শাসন করেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন
Web-Image11

সুযোগ পেলেই শিক্ষার্থীকে নিয়ে ওয়াশরুমে যেতেন মাদরাসা শিক্ষক, অতঃপর...

থানা হেফাজতে নেওয়ার সময় অভিযোগের বিষয়ে এনামুল হক জানান, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তিনি কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ করেননি বলেও দাবি করেন।

স্থানীয় মুসল্লি গফুর সরদার ও শামসুল হক মাদবর বলেন, দুই শিশু দুষ্টুমি করায় তাদের শাসন করা হয়েছিল। পরে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। 

তারা আরও বলেন, এনামুল হক দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মা থানায় যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একজন ইমামের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই ইমামকে আটক করা হয়েছে। এখন অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/আইএম