images

দেশজুড়ে

পরনারীর ঘরে ধরা পড়া সেই ৪ বিয়ে করা জামায়াত সমর্থক কারাগারে

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০৫:০২ পিএম

পঞ্চগড়ে চার বিয়ে ও তিনবার তালাকের পরও পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগে এক নারীর ঘরে গিয়ে আটক হওয়া জামায়াত সমর্থক জহিরুল ইসলামকে (৪২) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের গইজপাড়া এলাকা থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জহিরুল ও তার বিরুদ্ধে মামলা করা নারীকে থানায় নেওয়া হয়।

জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম আগে হাড়িভাসা ইউনিয়নে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সংগঠন যুব জাগপার নেতৃত্বে ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি জামায়াতের একজন সমর্থক হিসেবে পরিচিত। দলটির সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে।

হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নূর-ই আলম জানান, জহিরুল চারটি বিয়ে করেছিলেন। এর মধ্যে তিন স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কচ্ছেদ হয়েছে। বর্তমানে তিনি চতুর্থ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন।

তিনি আরও জানান, যে নারীর সঙ্গে জহিরুল ইসলাম পরকীয়ার সম্পর্ক গড়েছিলেন, তার স্বামী ঢাকায় থাকেন। ফলে ওই নারীর সঙ্গে জহিরুলের সহজেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গেছে। গত সোমবার গভীর রাতে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে তার ঘরে যান জহিরুল। স্থানীয় কয়েকজন তাকে দেখতে পেয়ে বারান্দার খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতির কারণে জহিরুলকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে মঙ্গলবার সকালে জহিরুল ইসলাম ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

আরও পড়ুন
Web-Image17

চার স্ত্রী থাকার পরও অন্য নারীর ঘরে জামায়াত সমর্থক, অতঃপর...

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জহিরুলকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তিনি জামায়াতের লোক বলে প্রচার হওয়ার পর দলটির বিরুদ্ধে বিতর্ক সৃষ্টি হলে জেলা নেতারা দাবি করেন, জহিরুল ইসলাম দলের কোনো সদস্য নন। তাদের ভাষ্য, জহিরুল কেবল জামায়াতের সমর্থক ছিলেন। সাংগঠনিকভাবে তার কোনো পদ বা সদস্যপদ নেই।

পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন বলেন, জহিরুল ইসলাম জামায়াতের কোনো পদ-পদবিতে নেই। জামায়াতে ইসলামকে ভালোবেসে যে কেউ সমর্থক হতে পারেন।

বিষয়টি নিয়ে জহিরুল ইসলাম বা ওই নারীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এমনকি ওই নারীর পরিবারের কোনো সদস্যও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছ বলেন, সোমবার রাতে এক নারীর ঘর থেকে স্থানীয়রা জহিরুল ইসলামকে আটক করেন। আমাদের খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে ওই নারীসহ থানায় নিয়ে আসি। পরে ওই নারী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জহিরুলকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে