বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ১০:৪৬ এএম
যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মারাত্মক শিক্ষকসংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাবে বাধ্য হয়ে এক বিষয়ের শিক্ষককে দিয়ে অন্য বিষয়ের পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি, বাংলা ও বিজ্ঞান বিষয়ের কোনো শিক্ষকই নেই। ফলে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক মনিরুল আলম পড়াচ্ছেন ইংরেজি, পরিসংখ্যানের শিক্ষক শাহ আলম নিচ্ছেন বিজ্ঞানের ক্লাস, আর দর্শনের শিক্ষক আবু সাঈদ পড়াচ্ছেন বাংলা। এছাড়া বিদ্যালয় শাখার ৮৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য গণিতে যেখানে দুজন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে রয়েছেন মাত্র একজন।
একই অবস্থা কলেজ পর্যায়েও। সেখানে বিজ্ঞান শাখার পাঁচটি বিষয়ে ২০ জন শিক্ষকের বদলে রয়েছেন মাত্র ৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ১৬ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ২ জন শিক্ষক, বাকি দুটি বিষয়ের কোনো শিক্ষকই নেই। উচ্চতর গণিত ও আইসিটি বিষয়ের পদগুলোও খালি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৬০ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন।
২০০৭ সালে পাঠদান শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের সময় কর্মরত ৫৭ জন শিক্ষকের যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে ২৬ জনকে রাজস্বভুক্ত করা হয় এবং ৩১ জনের নিয়োগ বাতিল করা হয়। তবে জাতীয়করণের পর দীর্ঘ আট বছর পার হলেও বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে নতুন করে কোনো পদ সৃষ্টি বা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
অধ্যক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. আবদুল হান্নান জানান, প্রতিদিন একই সময়ে ২০টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালাতে গিয়ে মারাত্মক হিমশিম খেতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন পদ সৃষ্টি ও শিক্ষক নিয়োগের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
যশোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুর হোসেন বলেন, জাতীয়করণের সময় নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়ায় এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অধ্যক্ষ মাউশিতে চিঠি পাঠালে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অভিভাবকদের মতে, সরকারি হওয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার কারণে পরীক্ষার ফল কিছুটা ভালো হলেও শ্রেণিকক্ষে মূল পড়ালেখা প্রায় বন্ধের পথে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের পুরনো সুনাম ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নতুন পদ সৃষ্টি করে শিক্ষক নিয়োগের জোরালো দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
আরটিভি/এসএস