বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:১৭ পিএম
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মানে এসেছে পরিবর্তন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরদারি, সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সহযোগিতার ফলে সরকারি এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হতো। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হতো। অনেক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হতো।
এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যাও ছিল সীমিত। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এখন হাসপাতালেই মিলছে এক্স-রে সেবাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা।
হাসপাতালে চালু করা হয়েছে নরমাল ডেলিভারি কক্ষ। চলতি মাসে ইতোমধ্যে ৬ থেকে ৮টি নরমাল ডেলিভারি ও সিজার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া জলাতঙ্কের টিকা, সাপে কাটার চিকিৎসাসেবা, এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন সেবা ও যন্ত্রপাতি সচল হওয়ায় চিকিৎসাসেবার পরিধি বেড়েছে। পাশাপাশি গাইনি সেবা পাওয়ায় উপকৃত হচ্ছেন নারী রোগীরা।
বর্তমানে হাসপাতালের বহির্বিভাগ (আউটডোর) ও অন্তর্বিভাগ (ইনডোর)—উভয় স্থানেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা স্বল্প সময়ে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ পাচ্ছেন। এতে খুশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। চিকিৎসাসেবার এই ইতিবাচক পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে এটি উপজেলার অন্যতম সেরা মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত তহবিল ও সরকারি অর্থায়নে বেশ কিছু আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এই কমপ্লেক্সে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে জটিল রোগীদের আর সহজে জেলা সদর বা রাজধানীতে ছুটতে হবে না।
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান জানান, ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হতদরিদ্র মানুষ দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং নামধারী কিছু ক্লিনিকের অতিরিক্ত ব্যবসার সুযোগ কমবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
আরটিভি/টিআর