images

দেশজুড়ে

বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:৫৩ পিএম

নড়াইল সদর উপজেলার দত্তপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, নড়াইল-যশোর প্রধান সড়ক থেকে নামলেই মাত্র এই রাস্তাটি ধরে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না থাকায় বর্ষা এলেই রাস্তাটি কাদাপানির ডোবায় পরিণত হয়। ইউনিফর্ম ও জুতো নষ্ট হওয়া এখন এখানকার শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের ঘটনা। সামান্য অসাবধানতায় পিছলে পড়ে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। পোশাক কাদা লেগে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে মাঝপথ থেকেই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নড়াইল-যশোর মহাসড়ক থেকে নেমে এই সংযোগ সড়কটি বর্ষাকালে পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। প্রতিদিন আমাদের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে চরম ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। কাদাপানির ভয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাচ্ছেন না। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, অতি দ্রুত যেন সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন
23

নড়াইল বিএনপির ৬ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের (ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি মো. তারিকুজ্জামান লিটু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গ্রামের কোমলমতি ছেলেমেয়েরা শিক্ষা নিতে এসে যদি প্রায় কাদায় হোঁচট খেয়ে পড়ে। প্রশাসনের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত রয়েছে। জনস্বার্থে ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সংস্কারের জন্য আমরা নড়াইল সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীই নন, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ। 

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো রোগী বা বয়স্ক মানুষকে নিয়ে এই পথ দিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা ছোট কোনো যানবাহনও বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারে না।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সংযোগ সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানান তারা। 

আরটিভি/এমএম