শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৫:৩৫ পিএম
বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া সিলকিবান্ধা এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসের নিচে চাপা পড়ে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া সিলকিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা কৃষি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।
নিহতরা হলেন— তাজিমুল (৪৭), বেল্লাল হোসেন, আবু সাঈদ (৪৫), আনারুল (৫৫), আমিরুল (৪০), নূর আলম (৪৫) ও জমির মালিক নূর মোহাম্মদ (৭৬)।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বামী আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন স্ত্রী রিনা বেগম। কখনো মরদেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন, কখনো বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে?’ পাশে থাকা স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো সান্ত্বনাই যেন তার বুকের শূন্যতা পূরণ করতে পারছিল না।
আবু সাঈদ ও আমিরুলের স্বজন সানাউল প্রধান বলেন, ২ জনই দিনমজুর ছিলেন। সাঈদের পরিবারের সদস্য ৬ জন। সংসারের সব দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। কাজের সন্ধানে বগুড়ায় এসেছিলেন, কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হলো না।
তিনি আরও বলেন, নিহত আমিরুলও ছিলেন ভূমিহীন। এক শতক জমির ওপর ছোট্ট একটি ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
নিহত নূর মোহাম্মদের ভাতিজা আল আমিন বলেন, ফজরের নামাজ পড়ে চাচা কামলার হাটে গিয়েছিলেন কৃষি শ্রমিক নেওয়ার জন্য। কে জানত, সেটাই হবে তার জীবনের শেষ পথচলা।
কৃষি শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ভোর ৫টার পর থেকেই এরুলিয়ার কামলার হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা জড়ো হন। কৃষিজমির মালিকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে শ্রমিক নিয়ে যান। নিহত ও আহতদের অনেকেই সেখানে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষে থাকতেন।
তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো আমারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার একটু দেরি হয়ে যায়। পরে গিয়ে দেখি চারদিকে মানুষের ভিড়, রক্তাক্ত মানুষ আর আর্তনাদ। তখন আহতদের উদ্ধারে অন্যদের সঙ্গে আমিও এগিয়ে যাই।
আরেক শ্রমিক মোশাররফ হোসেন সরকার বলেন, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শ্রমিকরা এই হাটে আসেন। বর্তমানে কৃষি কাজে একজন শ্রমিক দৈনিক প্রায় ৭০০ টাকা মজুরি পান। সেই সামান্য আয়ের ওপরই নির্ভর করে অসংখ্য পরিবারের জীবন।
আরটিভি/ এসকেডি