images

দেশজুড়ে

সুনামগঞ্জে সেতুর উপরে বালুর ব্যবসা, ভোগান্তিতে জনসাধারণ

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৪৬ পিএম

সুনামগঞ্জের দিরাই-রানীগঞ্জ সড়কের হাতিয়া গ্রামের কাছে একটি খালের উপর নির্মাণ করা সেতুতে বালু-পাথর রেখে ব্যবসা করছেন কয়ছর আহমদ নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী। এতে এই সেতুর উপর দিয়ে যানচলাচলে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, দিরাই উপজেলার কালনী নদীর পূর্ব পাড়ের সরালিটোপ থেকে কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রাম হয়ে সড়কটি জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকায় সংযুক্ত হয়েছে। এই সড়ক পথে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার অন্তত অর্ধশত গ্রামের লোকজন সুনামগঞ্জ-সিলেট চলাচল করেন। স্থানীয়রা এই সড়ক দিয়ে আকিল শাহ বাজারে ও স্কুল-কলেজ মাদ্রাসায় যাতায়াত করেন।  

সড়কটির হাতিয়া গ্রামের মাঝপাড়ার মোল্লা বাড়ির কাছের খালের উপর এলজিইডির একটি পুরনো সেতু রয়েছে। ১০ ফুট প্রশস্তের এই সেতুর প্রায় অর্ধেক দখল করে বালু-পাথর ব্যবসা করছেন একই গ্রামের কয়ছর আহমদ। এতে এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী,বাজারে যাওয়া ক্রেতা-বিক্রেতা ও যানবাহন চালকরা পড়েছেন দুর্ভোগে। এলাকার লোকজন ও সড়কে যাত্রী পরিবহনকারী অটো রিকশা চালকরা সেতুর উপর থেকে বালু সরানোর জন্য অনুরোধ করলেও কর্নপাত করছেন না ব্যবসায়ী কয়ছর আহমদ। উল্টো নানা কথা বলছেন, গালি-গালাজ করছেন।

আরও পড়ুন
15

সাভারের ৩ ইউনিয়ন কেরানীগঞ্জে যুক্ত করার চক্রান্তের অভিযোগ

হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০টি গ্রামের মানুষ, ২ টি কলেজ, ১টি মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচল করেন। এই সেতুর উপর দিয়ে মানুষ সুনামগঞ্জ-সিলেটে যাতায়াত করেন। কিন্তু সেতুর উপরে বালু স্তুপ করে রাখার কারণে সবাইকে দুর্ভোগ সইতে হচ্ছে।

আকিল শাহ অটো রিকশা মালিক সমিতির সভাপতি শিশু মিয়া বলেন, আমাদের গাড়ি চালকরা জানিয়েছেন সেতুর উপরে ৭/৮’শ ফুট বালু ফেলে রেখেছে কয়ছর মিয়া। যার কারণে সেতুর উপরে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বালু সরানোর জন্য তাকে বললে, উল্টো চালকদেরকে সে গালি-গালাজ করেছে। আমরা বিষয়টি আকিল শাহ বাজার কমিটিকে জানিয়েছি। তিনি আরও জানান, সেতুটি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। বালু স্তুপ করে রাখার বারণে যে কোন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আকিল শাহ বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এই সেতুর উপর প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু সেতুর অর্ধেক জায়গাজুড়ে বালু থাকার কারণে সবারই কষ্ট হচ্ছে। বালু সরানোর জন্য কয়ছরকে বললে সে আরও উল্টো-পাল্টা কথা-বার্তা বলে। সেতুর উপর থেকে বালু সরানোর জন্য তার চাচা আব্দুস সালামকে বলা হয়েছে। 

বালু পাথর ক্রেতা পরিচয়ে কয়ছর আহমদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সেতুর উপরে প্রায় ৫০০ ফুট বালু আছে নেওয়া যাবে। সেতুর উপরে কীভাবে বালু-পাথর ব্যবসা করেন জানতে চাইলেই কথা ঘুরিয়ে বলেন, আমি সেতুর উপরে কোন বালু-পাথর রাখি না। এই বালু আমার না, তহুর নামের একজন কিনে সেতুর উপর রাখছে।

এলজিইডির দিরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, হাতিয়া গ্রামের কাছে সেতুর উপরে বালু-পাথর রেখে ব্যবসা করার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি কিছু দিন হয় এখানে যোগদান করেছি। লোক পাঠিয়ে বিষয়টির খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।’

আরটিভি/ এসকেডি