শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:১৩ পিএম
কুমিল্লার ঝাউতলা এলাকার মক্কা হসপিটাল পিএলসিতে এক প্রসূতি একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে জন্মের পর অতিরিক্ত অপরিণত অবস্থায় থাকায় দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জীবিত তিন নবজাতকের মধ্যে দুজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন এবং একজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সুজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল নাঈমা হাসপাতালে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। তার স্বামী তারেক প্রবাসে কর্মরত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গর্ভধারণের সাত মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রসববেদনা শুরু হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের মধ্যে দুইজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল। তবে ওজন কম এবং অতিরিক্ত অপরিণত হওয়ায় দুই নবজাতক জন্মের পরপরই মারা যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে জীবিত তিন নবজাতকের মধ্যে দুজনকে এনআইসিইউতে বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর একজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। মা ও তিন নবজাতকই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
পুরো প্রসব প্রক্রিয়াটি গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সরতাজ বেগমের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
প্রসূতির বাবা শামসুল হুদা বলেন, এটি আমাদের পরিবারের জন্য একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে গভীর বেদনার মুহূর্ত। একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম হলেও দুজনকে হারাতে হয়েছে। বাকি তিন সন্তানের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
মক্কা হসপিটাল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার মামুন বলেন, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম অত্যন্ত বিরল ঘটনা। আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মা ও জীবিত তিন নবজাতকের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অধ্যাপক ডা. সরতাজ বেগম বলেন, সাত মাসে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম হওয়ায় এটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ প্রসব ছিল। নবজাতকদের ওজন কম থাকায় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে। বর্তমানে মা স্থিতিশীল আছেন এবং জীবিত নবজাতকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এসকে