images

অপরাধ / দেশজুড়ে

সীতাকুণ্ডের জঙ্গলে শ্বাসনালী কাটা সেই শিশুটির সঙ্গে কী হয়েছিল?

মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ , ০৬:৪৭ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নৃশংসভাবে শ্বাসনালি কেটে হত্যার চেষ্টার শিকার আট বছর বয়সী সেই মেয়ে শিশুটি শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেছে।

সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির চাচা আব্দুল আজিজ সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন সরাসরি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গত রবিবার শিশুটির মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন। এখন শিশুটির মৃত্যুর পর সেটি নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। শিশুটির রক্তাক্ত অবস্থার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের উদ্রেক হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, যেখানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি সমতল ভূমি থেকে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচুতে একটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।

আরও পড়ুন
jungle

গলাকাটা অবস্থায় জঙ্গলে হাঁটতে থাকা সেই ছাত্রী মারা গেছে

ঘটনার দিন গত রোববার সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার রাস্তার একটি অংশে সংস্কারের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যমতে, শিশুটি যখন গলা কাটা অবস্থায় পাহাড় থেকে টলমল পায়ে নেমে আসছিল, তখনো তার ঘাড় বেয়ে অঝোর ধারায় রক্ত ঝরছিল। যন্ত্রণায় কাতর শিশুটি রাস্তার কাজে থাকা এক্সকাভেটর চালকের কাছে গিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শ্বাসনালি কাটা থাকায় তার মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হচ্ছিল না। দ্রুত স্থানীয়রা কাপড় দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে একটি বালুর ট্রাকে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখান থেকে ওই রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা তার গলায় জরুরি অস্ত্রোপচার শেষে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় অবুঝ এই শিশুটিকে। 

শিশুটির চাচা আব্দুল আজিজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, কে বাচ্চাটাকে ওই দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেল, এটিই এখন আমাদের কাছে বড় রহস্য। আমরা শুধু চাই আমার ভাতিজিকে যারা এভাবে নির্যাতন করে মেরে ফেলল, তাদের যেন কঠোরতম শাস্তি হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি তার তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিল। তার বাবা একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। ঘটনার দিন সকালে শিশুটি তার মাকে খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। মা তার ছোট ভাইকে সাথে নিতে বললেও সে একাই বেরিয়ে যায়। স্বজনদের ধারণা, প্রতিদিনের মতো সে হয়তো পাশের বাড়িতে থাকা তার দাদীর কাছেই যাচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথ থেকে তাকে কে বা কারা কৌশলে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে ওই দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেল, তা এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নজরে রাখছি। শিশুটি কীভাবে এত দূরে গেল এবং এর পেছনে কারা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে, তা খুব শীঘ্রই জনসমক্ষে আনা হবে।

আরটিভি/এআর