রোববার, ০২ নভেম্বর ২০২৫ , ১২:১৭ পিএম
বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম টানা চতুর্থ বছর কমতে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে জ্বালানি তেলের দাম আরও ১০ শতাংশ কমতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে পণ্যের দামকে ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক অক্টোবর ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫ এবং ২০২৬—এই দুই বছরে বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমবে। এর মূল কারণ হিসেবে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৬৮ ডলারে বিক্রি হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ২০২৬ সালে গড়ে ৬০ ডলারে নেমে আসবে, যা হবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, চীনে তেলের ব্যবহার স্থিতিশীল হওয়া এবং বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বাড়ায় তেলের চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
জ্বালানির দাম কমার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষি ও খাদ্যখাতে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জিনিসপত্রের দাম আরও ৭ শতাংশ কমতে পারে। সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৫ সালে খাদ্যের দাম ৬.১ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ০.৩ শতাংশ কমবে। যদিও রেকর্ড উৎপাদনের কারণে ২০২৫ সালে সয়াবিনের দাম কমছে, তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে ২০২৬ সালে কফি এবং কোকোর দামও কমার পূর্বাভাস রয়েছে।
তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে বাণিজ্য বিধিনিষেধের কারণে ২০২৫ সালে সারের দাম ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষকদের লাভের মার্জিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রমাগত কেনার কারণে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সাল শেষে সোনার দাম ৪২ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে আরও ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দ্রমিত গিল বলেন, জ্বালানি তেলের দামের পতন বিশ্বব্যাপী ভোক্তা-মূল্য মুদ্রাস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। সরকারগুলোর উচিত তাদের আর্থিকখাতকে সুশৃঙ্খল করা এবং এই সুযোগটি অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজে লাগানো।
আরটিভি/এআর