images

অর্থনীতি

তবে কি বাংলাদেশে আসছে পেপ্যাল?

বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০১:৫৬ পিএম

বাংলাদেশে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক লেনদেন সেবা ‘পেপ্যাল’ আসার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়ার বিষয়ে সঠিক কোনো খবর এখনও নিশ্চিত হয়নি। ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য ‘পেপ্যাল’ আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ঘোষণা এবং পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও, শেষ পর্যন্ত ‘পেপ্যাল’ এখনও বাংলাদেশে চালু হয়নি। তবে কি এবার সত্যিই ‘পেপ্যাল’ বাংলাদেশে আসছে?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ‘পেপ্যাল’ আবারও আলোচনায় আসে। অনেকেই আশা করছেন যে, খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে ‘পেপ্যাল’ চালু হবে। যদিও এই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত সম্মেলন ও কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ‘পেপ্যাল’ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘পেপ্যাল’ একটি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা, যেখানে টাকা পাঠানো-নেওয়া, বিল প্রদান ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারে তোলার জন্য এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম সংযোজন সময়ের দাবি।

এর আগে ২০১৬ সালে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে ‘পেপ্যাল’র চুক্তি হয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে, ‘পেপ্যাল’ বাংলাদেশে আসছে। এছাড়া ২০১৭ সালে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড মেলায় ‘পেপ্যাল’ চালু করার ঘোষণা দেওয়া হলেও সেটি আদতে ছিল ‘পেপ্যাল’র একটি সেবা ‘জুম’।

বাংলাদেশে ‘পেপ্যাল’ চালু হওয়ার বিষয়ে দফায় দফায় ঘোষণা এসেছে, তবে বাস্তবতায় তা কখনও শুরু হয়নি। ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর গাজীপুরে ওয়ালটনের কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরেই (২০২১) দেশে চালু হবে ‘পেপ্যাল’।দ

এছাড়া, ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০২১ অনুষ্ঠানে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ বলেছেন, আমরা ‘পেপ্যাল’র উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আশা করছি একটি ভালো সংবাদ দিতে পারব। তবে, কবে, কখন, কীভাবে ‘পেপ্যাল’বাংলাদেশে চালু হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন
pay-pal

দেশে শিগগিরই আসছে পেপ্যাল

বাংলাদেশে ‘পেপ্যাল’ চালু না হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সামঞ্জস্যতা। এছাড়া, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠা করতে আইনগত ও প্রযুক্তিগত কিছু জটিলতা রয়েছে।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা দীর্ঘদিন ধরে ‘পেপ্যাল’র জন্য অপেক্ষা করছেন, কারণ এটি তাদের জন্য একটি নিরাপদ, দ্রুত এবং সহজ পেমেন্ট সিস্টেম হতে পারে। ‘পেপ্যাল’ আসলে, আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আয় সহজে এবং দ্রুত দেশে আনা সম্ভব হবে, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

আরটিভি/কেআই