images

অর্থনীতি

অবশেষে বাংলাদেশে আসছে পেপ্যাল, জেনে নিন সুবিধা-অসুবিধা

বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৬:২২ পিএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল (PayPal) শিগগিরই বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গভর্নর জানান, পেপ্যাল চালু হলে দেশের ফ্রিল্যান্সার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেনে থাকা দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হবে। বিশেষ করে বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আয় গ্রহণ, রেমিট্যান্স সংগ্রহ এবং ই-কমার্স লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। 

পেপ্যাল কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পেপ্যাল একটি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা, যার মাধ্যমে অনলাইনে টাকা পাঠানো, গ্রহণ, বিল পরিশোধ ও কেনাকাটা করা যায়। বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত এই সেবার ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩৬০ মিলিয়নের বেশি। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পেপ্যালের পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তারা বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছিলেন।

গভর্নরের মতে, পেপ্যাল চালু হলে—আন্তর্জাতিক লেনদেন হবে আরও দ্রুত, জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে,বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে ও
আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশের অবস্থান হবে আরও শক্তিশালী। 

বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর সম্ভাব্য ৫টি বড় সুবিধা

১. দ্রুত আয় গ্রহণ
ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কয়েক মিনিটেই পেমেন্ট পেতে পারবেন।

২. সরাসরি মার্কেটপ্লেস সংযোগ
Upwork, Fiverr, Freelancer.com-এর অনেক লেনদেনেই পেপ্যাল সুবিধা থাকে—যা সহজে ব্যবহার করা যাবে।

৩. বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধি
বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট পেমেন্ট হিসেবে পেপ্যাল ব্যবহার করে, ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে।

৪. স্টার্টআপ ও ই–কমার্স খাতের উত্থান
আন্তর্জাতিক কেনাকাটা ও সেবা বিক্রি সহজ হওয়ায় স্টার্টআপগুলো বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।

৫. নিরাপদ লেনদেন
পেপ্যালের শক্তিশালী পারচেজ প্রটেকশন ও ফ্রড মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়াবে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে অফিসিয়ালি পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না। তবে গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী খুব শিগগিরই অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। আগেও ২০১৭ সালে পেপ্যাল চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। ফলে নতুন ঘোষণাটি ফ্রিল্যান্সিং খাতে আবারও আশার আলো জ্বালালেও সবাই বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

বর্তমানে পেপ্যালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘জুম’ (Xoom) সীমিত সেবা দিচ্ছে, তবে এটি ফ্রিল্যান্সারদের প্রধান চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

অনুষ্ঠানে গভর্নর আরও জানান, দেশের অর্থনীতির দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার একটি বড় কারণ নগদ টাকা নির্ভরতা।
প্রতি বছর টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। তাই ধাপে ধাপে নগদ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে কৃষিখাতে অবদানের জন্য ৮ জন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়। গভর্নর জানান, কৃষি খাতে ঋণ বর্তমানে মাত্র ২%, এটি বাড়িয়ে ১০%-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি স্বাধীনতার পর থেকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতিও তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন
pay-pal

দেশে শিগগিরই আসছে পেপ্যাল

পেপ্যালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা খাত নতুন সম্ভাবনার দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ ঘোষণাকে অনেকে ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। এখন শুধু অপেক্ষা—কবে নাগাদ বাস্তবে পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ মিলবে।

আরটিভি/এসকে