images

অর্থনীতি

পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে সোনার দাম, আরও এক নতুন রেকর্ড

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৫১ পিএম

নতুন বছরের শুরু থেকেই ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে বিশ্ববাজারে; প্রতিদিনই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ডের পেছনে ছুটছে সোনার দাম। এ ধারাবাহিকতায় আরও এক নতুন রেকর্ড দেখা গেছে মূল্যবান এই হলুদ ধাতুটির দামে।   

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এখন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা মজুতের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে ডলারের অব্যাহত দরপতন সোনার চাহিদায় যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা। সব মিলিয়ে সোনার দামে এমন পাগলা ঘোড়ার মতো দৌঁড় দেখা যাচ্ছে।

সবশেষ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১ দশমিক ১ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ২৭৮ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। আর এতে করে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে মূল্যবান হলুদ ধাতুটির দাম। খবর এএফপির।

১ ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০৩৪৭৬৮ গ্রাম, যা সাধারণ বাণিজ্যিক ১ আউন্সের (২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। আবার ১ আউন্স সমান প্রায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি।

এর আগে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো সোনার দাম আউন্স প্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়ায়। সেদিন স্পট সোনার দাম প্রতি আউন্স ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৬ ডলার দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর জোরালো সম্ভাবনায় সোনার দামে এই বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ফেড) সর্বশেষ নীতি বৈঠকের দিকেও সতর্ক নজর রাখছেন। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের হুমকির প্রেক্ষাপটে সুদহার নিয়ে ফেড কী দিকনির্দেশনা দেয়, তা জানতে আগ্রহী তারা।

আরও পড়ুন
Brent

আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

গতকাল মঙ্গলবার ডলারে বড় ধরনের বিক্রি চাপ দেখা যায়। এর পেছনে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য। ট্রাম্প বলেন, তিনি ডলারের সাম্প্রতিক দরপতনে সন্তুষ্ট। ওই দিন ইউরোর বিপরীতে ডলারের মান চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ২০ ডলার।

এদিকে, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ইয়েনের বিনিময় হার নিয়ে বাজারের ট্রেডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে- এমন প্রতিবেদনের পর সব বড় মুদ্রার বিপরীতেই দুর্বল হয়েছে ডলার।

এই পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউজ হয়তো ডলারকে দুর্বল হতে দিতে রাজি। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ডলারের পতন নিয়ে উদ্বেগ আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমার তো এটা দারুণ মনে হচ্ছে। ওই সময় ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান নেমে আসে আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

এমন পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাস ফেড সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে, ডলার দুর্বল থাকলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে সুদহার কমানোর সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থাও ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে এক জরিপে দেখা গেছে। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, ইউরোপে বিলাসপণ্য খাত নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণে বড় ধাক্কা খেয়েছে ফ্রান্সের শেয়ারবাজার সূচক সিএসি-৪০। বাজারের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ জানিয়েছে, তাদের বার্ষিক মুনাফা ১৩ শতাংশ কমে ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউরোতে (প্রায় ১৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার) দাঁড়িয়েছে এখন।

এর প্রভাবে এলভিএমএইচের শেয়ার দর ৬ দশমিক ৫ শতাংশ পড়ে গেছে। লন্ডনে ব্রিটিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড বারবেরির শেয়ারও কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

আরটিভি/এসএইচএম