বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৪:৩৯ পিএম
প্রতিবছর রমজান এলেই নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি যেন বাংলাদেশের চিরায়ত রীতি। রমজানের এক-দেড় মাস আগ থেকেই বাজারে তৎপর হয়ে ওঠে সিন্ডিকেট; তৈরি হয় কৃত্রিম সংকট। এবারও ব্যতিক্রম ঘটলো না এই রীতির। রমজানের প্রথম দিনেই হুট করে দামের সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে বেগুন ও শসা। সেইসঙ্গে লেবুর হালি গিয়ে ঠেকেছে ১২০ টাকায়। সব মিলিয়ে ইফতারের আইটেম কিনতে গিয়ে ফল কেনার টাকায় পড়ছে টান।
বাজারে সরবরাহ ঘাটতি না থাকলেও আগুন লেগে গেছে সবজির দামে। বেশ বেড়েছে ফলের দামও। এছাড়া, মুরগিও বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক চড়া দামে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে সবজির দাম। বিশেষ করে লেবু, শসা আর বেগুনের দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
মান ও সাইজভেদে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আর বেগুন ও শসার দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকার ঘর। বাজারে সবজি কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, রমজান শুরু হতেই দাম এমন বাড়বে ভাবিনি। লেবু ছাড়া ইফতার কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু এক হালি লেবু কিনতেই ১২০ টাকা গুনতে হচ্ছে এখন। বেগুন আর শসার দামও ১০০ টাকার ওপরে।
ইফতারে বিশেষ চাহিদা থাকে ফলের। আর রমজানকে কেন্দ্র করে তাই আপেল, আনার ও মাল্টার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এসব ফলের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। ফল কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, সারাদিন রোজা রাখার পর একটু ফল খাওয়া অনেকটা অনিবার্য হয়ে পড়ে। কিন্তু, এই ফল এখন বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ইফতার ও সেহেরিতে আমিষের জোগান নিশ্চিতে বেশিরভাগেরই ভরসা মুরগি। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরেই ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। এছাড়া, সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ টাকা ও লেয়ার মুরগির ৩৩০ টাকা এখন।
রমজান ঘিরে চড়া মসলার দামও। রমজানের প্রথম দিনেই নিত্যপণ্যের দামে এমন আগুন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার দ্রুতই কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেবে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে।
আরটিভি/এসএইচএম