শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৫৫ পিএম
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে যেন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। রোজার আগে যে ফলগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল, চাহিদাকে পুঁজি করে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।
খুচরা বাজারে ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর থেকে শুরু করে আঙুর, আনার বা আপেল— সবকিছুর দামই এখন আকাশচুম্বী। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবারের মতো এবারও ফলের বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অতি মুনাফা লুটছেন ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পকেট খালি হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি)বিকালে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান খেজুরের দাম শুনে অনেক মধ্যবিত্ত ক্রেতাকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মেডজুল খেজুর, যার প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।
এছাড়া মরিয়ম খেজুর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কালমী ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং সুকারী ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের মিনিফী খেজুরও এখন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে মিলছে না।
খেজুরের পাশাপাশি অন্যান্য ফলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। খেজুরের পরেই দামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে আনার; মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬২০ টাকায়। কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ইফতারের থালা সাজাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলো।
বাজারের অন্যান্য বিদেশি ফলের মধ্যে গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা এবং কমলা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলক কম দামের ফলের তালিকায় থাকা পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, পেয়ারা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি ফলের সরবরাহ থাকলেও রমজান উপলক্ষ্যে এগুলোর দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। ডজনপ্রতি সবরী ও সাগর কলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং চম্পা কলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে দাম যাচাই করতে আসা সম্রাট কবির নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছি ৩২০ টাকায়, আজ বিক্রেতারা চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজা আসলে ব্যবসায়ীরা সব সময় এমন করে। মনে হয় রোজার মাসে এসব ফল অন্য কোথাও থেকে আমদানি করা হয়।’
অন্য এক ক্রেতা আশরাফুল ইসলাম জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা হয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ফল ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল কেনেন। সেখানে একেক সময় একেক দামে ফল কিনতে হয়।
তারা আরও বলেন, ‘পাইকারিতে যেমন দামে কিনি, সীমিত লাভে তেমন দামেই বিক্রি করি। অনেক সময় ফলের নিচে নষ্ট বের হয়, সেই লোকসানও আমাদের গুনতে হয়।’
আরটিভি/এআর