বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:৩৯ পিএম
দেশের অন্যতম পুরনো বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড বর্তমানে এক ভয়াবহ তারল্য সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রাহকদের বাড়তি টাকার চাহিদা মেটাতে ব্যাংকটিকে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বার্ষিক ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে পরবর্তী ৯০ দিনের জন্য এই বিশাল অংকের তহবিল ন্যাশনাল ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে। মূলত ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই জরুরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংকে যে পরিমাণ আমানত জমা হচ্ছে এবং পুরনো ঋণ আদায় হচ্ছে, তা দিয়ে দৈনন্দিন লেনদেন চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগে সাধারণ গ্রাহকদের টাকা তোলার হার কয়েক গুণ বেড়ে যায়, যা সামাল দেওয়ার মতো যথেষ্ট নগদ অর্থ ব্যাংকটির ভল্টে ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জরুরি তহবিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক 'ডিমান্ড প্রমিসরি' (ডিপি) নোটের বিপরীতে এই অর্থ ছাড় করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিগত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব এবং নানা অনিয়মের কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক চরম দুর্দিনের মুখে পড়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল সিকদার গ্রুপের হাতে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হলেও ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের মে মাসে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এস আলমমুক্ত পর্ষদ গঠিত হলেও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়মের বোঝা ব্যাংকটিকে এখনো তারল্য সংকটের গভীর খাদে আটকে রেখেছে।
আরটিভি/এআর