বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:২০ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকায় গত তিন বছর ধরে চলা মন্দাভাবের এক উদ্বেজনক চিত্র উঠে এসেছে সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার টানা তৃতীয় বছরের মতো কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের ওয়েবসাইটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব প্রকাশ করেছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশে। নিম্নমুখী এই প্রবণতা অব্যাহত ছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও, তখন প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ হয়।
এর আগে কেবল ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির চরম সংকটের সময় প্রবৃদ্ধির হার এর চেয়ে নিচে অর্থাৎ ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছিল। সেই হিসেবে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমলেও আশার কথা হলো মাথাপিছু আয় কিছুটা বেড়েছে। টানা দুই বছর কমার পর এবার মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৭৬৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতির পেছনে খাতভিত্তিক কিছু পরিবর্তনের চিত্রও পাওয়া গেছে। বিবিএসের তথ্যমতে, গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি এবং সেবা—উভয় খাতের প্রবৃদ্ধিই বেশ ধীর হয়ে পড়েছে। তবে এর বিপরীতে শিল্প খাতে আগের চেয়ে কিছুটা বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়াই এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের প্রধান কারণ। কৃষি ও সেবা খাতের মতো বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতগুলোর ধীরগতি সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও মাথাপিছু আয়ের পরিসংখ্যান কিছুটা ইতিবাচক, তবে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে আসাকে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/এআর