শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ০২:১১ পিএম
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির আকাশচুম্বী দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক হাহাকার দেখা দিলেও বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে অধিকাংশ সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে এসেছে। তবে সবজি বাজারে স্বস্তি মিললেও নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) খিলক্ষেত ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এই বৈচিত্র্যময় চিত্র দেখা গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে যে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, আজ তা ২৩০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মুরগির এই হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
খিলক্ষেত বাজারে আসা ক্রেতা আসিফ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাত দিনের ব্যবধানে মুরগির দাম এতটা বাড়বে তা কল্পনাও করিনি। ১৮০ টাকার মুরগি এখন ২৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ব্রয়লারের পাশাপাশি কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লেয়ার ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মুরগির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সবজি বাজারে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রমজানের প্রথম দিনে যে লেবু হালিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা বর্তমানে ৪০ থেকে ৮০ টাকায় নেমে এসেছে। শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া করলা, ঢেঁড়স, পটল ও চিচিঙ্গার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিগুলো এখন ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ১০০ টাকার কাছাকাছি ছিল।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আড়তে সবজির সরবরাহ এখন পর্যাপ্ত থাকায় দাম কমেছে। খুচরা বাজারে কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা এবং আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের দামও আকারভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি এমন থাকলে রমজানের বাকি দিনগুলোতে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
তবে মাছের বাজারে এখনও চড়া ভাব বজায় রয়েছে; বিশেষ করে চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং রুই ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতাদের মতে, সবজির দাম কমলেও মুরগির সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে রমজানে আমিষের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে। হঠাৎ করে মুরগির দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে কোনো অসাধু চক্রের কারসাজি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন তারা।
আরটিভি/এআর