images

অর্থনীতি

আবাসন খাত রক্ষায় বিশেষ তহবিল চায় রিহ্যাব

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ , ০৯:১৫ পিএম

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের আবাসন শিল্পকে ধসের হাত থেকে রক্ষা করতে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রিহ্যাব-এর শীর্ষ নেতারা এই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। আবাসন খাতের সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সাক্ষাতে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ লায়ন এম এ আউয়াল (সাবেক এমপি), পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম এবং মিরাজ মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ভারত থেকে আনা ডিজেল সরাসরি যাবে পার্বতীপুর

রিহ্যাব নেতারা জানান, আবাসন খাত কেবল আবাসনই নয়, বরং এর সঙ্গে রড, সিমেন্টসহ প্রায় ২৫০টিরও বেশি শিল্প খাত সরাসরি জড়িত। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের ফলে নির্মাণসামগ্রীর আকাশচুম্বী মূল্য বৃদ্ধি এবং অর্থায়ন সংকটে এই শিল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ রিফাইনান্স স্কিম বা তহবিল গঠন করা এখন সময়ের দাবি।

তহবিল গঠনের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের স্বপ্নের আবাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমানোর দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব। নেতারা গভর্নরকে বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ঋণের জটিল প্রক্রিয়া এবং উচ্চ সুদ হারের কারণে সাধারণ মানুষ ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণ সুবিধা চালু এবং লোন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজতর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা আশা করেন, আবাসন খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাক্ষাৎ শেষে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের জিডিপিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। চলমান প্রকল্পগুলো সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়ায় দেশীয় বাজারে অ্যাপার্টমেন্টের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আরটিভি/এআর