বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ , ১০:২০ এএম
রপ্তানি খাতে সরকারের নগদ প্রণোদনার অর্থ আর ঝুলে থাকবে না বলে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, এখন থেকে প্রণোদনার কোনো আবেদন দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ থাকবে না এবং মাসিক প্রণোদনার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসের মধ্যেই পরিশোধ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকের বিষয়ে বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি ব্যাংকে আটকে থাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও রপ্তানি আয়ের অর্থ নগদায়ন করতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তারা জানান, সাবেক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত হয়ে গঠিত ইসলামী ব্যাংকে থাকা অর্থ উত্তোলনে জটিলতার কারণে অনেক কারখানায় তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে শ্রমিকদের বেতন ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ নজরদারি করবে বলে আশ্বাস দেন গভর্নর। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতাধীন বিষয়গুলোতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা নগদ প্রণোদনার হার বাড়ানোর দাবিও জানান। তারা বিশেষ নগদ প্রণোদনার হার ০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, বিকল্প নগদ প্রণোদনা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রণোদনা ৩ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।
তাদের মতে, প্রণোদনার অর্থ নিয়মিত ও দ্রুত ছাড় না হলে অনেক কারখানা শিগগিরই বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ ছাড়া প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিমের আকার ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা এবং এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেন তারা।
বৈঠকে বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ নেতা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএইচজে