রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৫২ পিএম
বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে অ্যাপারেল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কই এই বড় পতনের প্রধান কারণ।
একই সময়ে চীন ও ভারতের রপ্তানি আরও বেশি হারে কমেছে। আর দেশটির মোট পোশাক আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশেরও বেশি।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপারেল পণ্য আমদানির তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান দ্য অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ (বিএই)- যা দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের উন্নয়ন ও রূপান্তর নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।
এই সময়ে চীন থেকে দেশটিতে পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ, আর ভারত থেকে কমেছে ২৪ শতাংশ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ ভিয়েতনাম। শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারকের তালিকায় এরপর রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, কম্বোডিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও হন্ডুরাস।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু গণমাধ্যমকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের কারণে সেখানে ক্রেতাদের ভোগ কমে গেছে। এর ফলে আমাদেরও রপ্তানি কমেছে।
তিনি বলেন, বাড়তি খরচের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ে। ফলে ভোগ কমে গেছে, যে কারণে তাদের আমদানিও কমেছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের ঘোষণা দেওয়ার পর আগস্ট পর্যন্ত সব দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হয়। এরপর ৭ আগস্ট বিভিন্ন দেশের ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক আরোপ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের ওপর বসানো হয় ২০ শতাংশ শুল্ক। তবে চীন ও ভারতের ওপর এর চেয়েও অনেক বেশি শুল্ক আরোপ হয়। ফলে দেশ দুটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমতে থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, চীন ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ব্যাপকভাবে কমার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারেনি।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে হারে আমদানি কমেছে, তার তুলনায় আমাদের রপ্তানি ওই বাজারে ততটা কমেনি। ফলে এটি প্রত্যাশিত। কিন্তু চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি যে হারে কমেছে, সেই সুযোগ আমরা নিতে পারিনি। সেই সুযোগ নিয়েছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো।
এর পেছনে লজিস্টিকসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিজিএমইএর সাবেক এই পরিচালক।
আরটিভি/এমএইচজে