images

অর্থনীতি

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতন

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:০৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর শর্তে একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালের লেনদেনে তেলের দাম এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৫.৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৩০ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, মার্কিন বাজারে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬.৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৩.৮০ ডলারে।

তবে এই পতনের পরও, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও বেশি। সে সময় বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেল প্রায় ৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আশায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে ৪.৫ শতাংশ,দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক বেড়েছে ৫.৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছিল ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে।

মঙ্গলবার(৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রাখতে রাজি, যদি তারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে খুলে দেয়।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে আজ রাতেই একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আমাদের ওপর হামলা বন্ধ হলে আমরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বাজার গবেষণা সংস্থা আলফাসেন্সের বিশ্লেষক জেভিয়ার স্মিথ বলেন, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি থাকলেও তিনি সম্ভবত সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

তার মতে, এতে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়া, বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা এবং জনসমর্থনের চাপ সবই কিছুটা কমতে পারে।

আরও পড়ুন
HURMUZ

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের অনুমতি পেল ইরান ও ওমান

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে চুক্তি ভেঙে গেলে আবারও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরটিভি/এসকে