শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:২৯ পিএম
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিয়ে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি—চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগে। হঠাৎ এমন কৃত্রিম সংকটকে আবারও দাম বৃদ্ধির আগাম সংকেত বা কৌশল হিসেবে দেখছেন ডিলার ও বিক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, তেলের জন্য এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অনেকে তেলের দেখা পেলেও চাহিদার তুলনায় অর্ধেকও কিনতে পারছেন না। এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, মিল থেকে সরবরাহ এতটাই কমেছে যে দৈনিক চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ তেল তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে। কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ বা কমিশন কমিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা।
ঈদের পর থেকেই বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খোলা তেল লিটারপ্রতি ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। অর্থাৎ বোতলের চেয়ে খোলা তেল কিনতে ভোক্তাদের লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন সামান্যই। আমদানিকারকদের নিয়ন্ত্রণহীন দৌরাত্ম্যে সাধারণ ভোক্তারা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন। বিক্রেতাদের মতে, চড়া দামে তেল কিনে আনার ফলে তারা লোকসান এড়াতে সরকার নির্ধারিত দামে পণ্যটি বিক্রি করতে পারছেন না।
জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বাড়ানোর জন্য বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে একধরনের সংকট তৈরি করেছেন। তারা প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন সরকারের কাছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। এ ছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৯৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা, পাম তেল বর্তমান নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৭৭ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন না দিলেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে খোলা তেল।
ভোক্তাকে জিম্মি করে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কৌশল বাস্তবায়নের শুরু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এমন তথ্য দিয়ে ক্যাব বলছে, প্রতিবছর এই সময়ে এসে হঠাৎ বাজারে কমে যায় সরবরাহ, তারপরই আসে কোম্পানিগুলো থেকে আসে ক্রেতার পকেট কাটার প্রস্তাব। সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকারও বাধ্য হন তাদের দাবি মেনে দাম বাড়াতে।
ক্যাবের সভাপতি শফিকুজ্জামান বলেন, কালোবাজারির সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছেন, সরকারের দায়িত্ব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। সরকার যেন ব্যবসায়ীদের কথায় না চলে আইনমতো চলে। সরকার ব্যবসায়ীদের পক্ষে অবশ্যই থাকবে, ব্যবসায়ীরাও পরিবেশটা রাখবে। কিন্তু স্বচ্ছ ব্যবসা যাতে করে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
আরটিভি/এমআই