বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:০৬ পিএম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে করের হার হ্রাস এবং রাজস্ব ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনসহ ৫৪টি প্রস্তাব পেশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে এই প্রস্তাবনাগুলো জমা দেওয়া হয়।
‘করের আওতা বৃদ্ধি ও ব্যবসা সহজীকরণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চেম্বারটি ১৬টি মূল সুপারিশ তুলে ধরে, যার প্রধান লক্ষ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন।
মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের স্বস্তিতে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা বিদ্যমান ৩.৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিসিসিআই। একইসঙ্গে করের সর্বোচ্চ হার ২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রেখে একটি সংশোধিত কাঠামোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেনের শর্তে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট কর ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৪ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের ওপর বিদ্যমান সারচার্জ আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কর প্রশাসনকে আধুনিক করতে ‘সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন’ চালুর ওপর জোর দিয়েছে ডিসিসিআই। এর মাধ্যমে এনবিআরের ডাটাবেসকে এনআইডি, ব্যাংক এবং ইউটিলিটি সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করযোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া ‘ই-কর্পোরেট ট্যাক্স রিটার্ন’ সিস্টেমের মাধ্যমে বিইএফটিএন-এর সহায়তায় স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যিক আমদানির ওপর অগ্রিম কর (এটি) ৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা এবং পর্যায়ক্রমে তা পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে চেম্বারটি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ভ্যাট পরিপালন সহজ করতে ইএফডি মেশিনের বিকল্প হিসেবে একটি জাতীয় মোবাইল অ্যাপ চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাস্টমস রিফান্ড প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ প্রেরণের দাবি জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ডিসিসিআই-এর কাস্টমস ও ভ্যাট সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির আহ্বায়ক এম বি এম লুৎফুল হাদি বলেন, এই প্রস্তাবগুলোর মূল লক্ষ্য উৎপাদনশীল খাতকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। নিয়ম মেনে চলা ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা কমালে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
আরটিভি/এমআই