শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:০২ পিএম
দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পকে শক্তিশালী করতে এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক তারল্য সংকট কাটাতে পুনরায় প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিল’ থেকে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার কোটি টাকা এই খাতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সুদে এই তহবিল গ্রহণ করবে। পরবর্তীতে গ্রাহক বা রপ্তানিকারক পর্যায়ে তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে। মূলত রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের আগের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এই বিশেষ ঋণ ব্যবহার করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের রপ্তানিকারকরা। তারা মনে করছেন, কম সুদে এই অর্থায়ন সুবিধা দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রপ্তানি খাতের উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ৫ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশেষ তহবিল ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে, যা সরাসরি দেশের মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের চলমান সংঘাত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের কারণে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পখাত চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, উৎপাদন সচল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় প্রি-শিপমেন্ট ঋণ চালু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রথমবার ৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছিল। পাঁচ বছর মেয়াদি ওই তহবিলের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে, পরে তা নবায়ন করা হয়নি। তখনও ব্যাংকগুলো ২ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিত।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের এপ্রিলে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ বন্ধ হওয়ায় উৎপাদনে বড় ধরনের পুঁজি সংকট তৈরি হয়েছিল। শিপমেন্টের জন্য পণ্য প্রস্তুতে এই ঋণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আগে এলসির বিপরীতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হতো। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ৫ শতাংশ সুদে একটি বিশেষ তহবিলের সুবিধা ছিল। ২০২৪ সালে সেই সুবিধা শেষ হয়ে গেলে বহু চেষ্টা করেও তা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও ৫ শতাংশ সুদে এই তহবিল চালু করেছে।
আরটিভি/এমআই