images

অর্থনীতি

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান বিসিসিসিআই’র

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:০৭ পিএম

বাংলাদেশের শিল্পকারখানা খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)। এ সময় সংগঠনটির নেতারা বলছেন, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলোর আধুনিকায়নে বিদেশি সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকার বিসিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে চায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কাউন্সিল, চায়না ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশন এবং ডাইং, প্রিন্টিং ও কেমিক্যাল উৎপাদন খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেন বিসিসিসিআই’র সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই খাতগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ দুই দেশের সহযোগিতার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বৈঠকটি টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাতে জ্ঞান বিনিময় ও ফলপ্রসূ সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

খোরশেদ আলম আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪০টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে বিদেশি সহযোগিতা অধিক কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হতে পারে।

তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগ, অংশীদারত্ব এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদলের নেতা লি লিংশেন বলেন, চীন প্রতিবছর প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাপড় বাংলাদেশে রপ্তানি করে, যা দুই দেশের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রতিফলন।

তিনি জানান, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিনিয়োগের সুযোগ সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির কারণে বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় শিল্প সহযোগিতা জোরদারে বিসিসিসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে পোশাক, টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাতে সহযোগিতা বাড়াতে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

আলোচনায় যৌথ উদ্যোগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা, দেশীয় ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতকে উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী উৎপাদনে যেতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে চীনা প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়ন ও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় পক্ষ একমত হয়।

বিসিসিসিআই’র পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল জামিলুর রহমান, সভাপতির উপদেষ্টা হারুন আর রশিদ ও শহীদ আলম, সহ-সভাপতি খন্দকার আতীকুর রহমান ও মাসুদ আলী খান, পরিচালক (জনসংযোগ) মো. জিন্নাতুল ইসলাম, পরিচালক মোহাম্মদ আমানুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহেরসহ অন্যান্য সদস্যরা।

আরটিভি/টিআর