শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১১:৩৪ এএম
গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে বাজার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে সবজির দামে নাভিশ্বাস তুলছে ক্রেতাদের।
শুক্রবার (১ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চিকন বেগুন কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় গোল বেগুনের দাম কেজি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। একইভাবে কাঁকরোলের দামও বেশ চড়া। প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
এদিকে টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ১২০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি (৪টা) বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
মুরগির বাজারেও দাম কমেনি। ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের এই উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়েই চলেছে।
রামপুরার জাকের গলির বাসিন্দা সোহেল রানা সকালে বাজার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। তিনি বলেন, ভোরে বৃষ্টি হওয়ার পর রাস্তায় এত পানি জমেছে যে হাঁটা কষ্টকর হয়ে গেছে। ময়লা পানি মাড়িয়ে বাজারে যেতে হয়েছে। তার ওপর বাজারে এসে দেখি বেগুনের দাম আকাশছোঁয়া। এক কেজি বেগুন কিনতেই ১৪০ টাকা চলে গেল।
মালিবাগ হাজীপাড়া এলাকার গৃহিণী রুবিনা আক্তার বলেন, বাজারে যাওয়াই এখন বড় সমস্যা। পানি জমে থাকায় পা ভিজে যাচ্ছে, কাপড় নষ্ট হচ্ছে। এত কষ্ট করে বাজারে গিয়ে সবজির দাম শুনতেই কষ্ট আরও বেড়ে গেল। বিশেষ করে কাঁকরোলের দাম অনেক বেশি, কিনতে গিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এক কেজি কাঁকরোল ১২০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। পটোলের কেজি ৬০ টাকা। মাঝারি একটা লাউ ৭০ টাকা। বেগুন ১২০ টাকা কেজি। সব সবজির দাম এমন চড়া। বাজারে স্বস্তি কোথায় বলেন তো! বৃষ্টির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমেছে কি না জানি না, কিন্তু বাজারে সবজির দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বেগুন আর কাঁকরোলের দাম তো খুবই বেশি। সাধারণ মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টকর।
রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। রাস্তা খারাপ থাকায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এজন্য দাম একটু বেশি।
তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমাদের ধারণা সামনে সবজির দাম আরও বাড়বে। কারণ, বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমবে। আর সরবরাহ কমলে দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
আরটিভি/এসআর