শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ০৪:৫১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত দেখছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির ‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক’ বা পণ্যবাজার-বিষয়ক পূর্বাভাসের ২০২৬ সালের এপ্রিল সংস্করণে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে চলতি বছর বৈশ্বিক পণ্যমূল্য গড়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বিশেষ করে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, পণ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। সরবরাহ সংকটে ইতিমধ্যে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জ্বালানি মূল্য গড়ে ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ২৬ ডলার বেশি। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১৫ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ নেই। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি খাতের কাঁচামাল, বিশেষ করে সারের দাম হুহু করে বাড়ছে। গত এক দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে সারের বাজার। এক মাসেই ইউরিয়ার দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি।
পাম ও সয়াবিন তেলের মতো জৈব জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মার্চ মাসে খাদ্যপণ্যের সূচক গত ২২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। সাধারণ ও মূল্যবান, উভয় ধরনের ধাতুর দামই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় রয়েছে (মার্চ মাসে যা ছিল ৮.৭১ শতাংশ)। বিশ্ববাজারের এই অস্থিতিশীলতা দেশের বাজারে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে।
ইতোমধ্যে দেশে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে কারখানার উৎপাদন খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং অর্থনীতির গতিকে মন্থর করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির এই ধাক্কা সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য আগামী দিনগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
আরটিভি/এমআই