images

অর্থনীতি

টিসিবির জন্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ০৫:২৫ পিএম

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য আলাদাভাবে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ কার্য-অধিবেশন শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আমদানি পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি এআই-নির্ভর মডেলের আওতায় এনে সার্বক্ষণিক নজরদারির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন
Web-Image

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

‘টিসিবির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি কার্যকর উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যা নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। আজ জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকেও বিভিন্ন উন্নয়নসংক্রান্ত প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে বন্ধ চিনিকল চালু, নতুন শিল্প এলাকা গড়ে তোলা এবং ডিস্টিলারির পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।’

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ এলাকার রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এসব শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে নতুন বিনিয়োগ আনা, আধুনিকায়ন এবং পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক পর্যায় ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে, বিশেষ করে কৃষিপণ্যে। গত পাঁচ দশকে এ খাতে সমন্বিত কোনো উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। সরকার এখন একটি সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছে। 

‘সে জন্য আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে হঠাৎ সরবরাহ সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে।’

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়, সে জন্য সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ঈদের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বন্ধ মিল চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, বস্ত্র ও পাট খাতের ৫০টি মিল পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে অনেকগুলো ইতোমধ্যে হস্তান্তর হয়েছে এবং বাকিগুলোও দ্রুত সম্পন্ন হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এসব মিল চালু হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরটিভি/এসআর