সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ০৫:৫৪ পিএম
এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে ভারতীয় রুপি। এর দরপতন হয়েই চলছে। ২০২৫ সালে ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। ফলে গত বছর এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার খেতাব পেয়েছে রুপি। শুধু ডলার নয়, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও চীনা ইউয়ান, অর্থাৎ বিশ্বের অন্য চারটি প্রধান মুদ্রার বিপরীতেও রুপির দর কমছে।
ইকোনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর মার্কিন–ভারত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ছিল। ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে পরবর্তীকালে তা কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। গত বছর রুপির দরপতনের পেছনে এই বাণিজ্যচুক্তি না হওয়া ছিল অন্যতম কারণ। কিন্তু এখন সেই অনিশ্চয়তা না থাকলেও রুপির দরপতন থামছে না।
এদিকে, ২০২৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রুপির মান প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে; গত বছরও একই ধরনের পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য টানাপোড়েন, দুর্বল মূলধনপ্রবাহ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন— সব মিলিয়ে ভারতের বহিঃখাতের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
এই চাপ অব্যাহত থাকলে ডলারের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে তেল আমদানিসংশ্লিষ্ট লেনদেন সীমিত করা, সোনা আমদানি কমানো বা মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে আরবিআই।
একদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, আরেক দিকে তার অভিঘাতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির দরপতন হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের মুদ্রা রুপির দর ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। এরপর কিছুটা বাড়লেও ভারতের বাজারে এখন ডলারের দাম অনেক।
বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মান দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৩৩। এর মধ্য দাম কিছুটা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও এখন প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৪ রুপির ওপরে পাওয়া যাচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে