শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ , ১১:২৪ পিএম
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মূল্য সূচক এপ্রিলে টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে গড়ে ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
শুক্রবার (৮ মে) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরান-সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে কার্যত চলাচল বন্ধ থাকার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে এপ্রিলে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় টানা তিন মাস বিশ্বে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্ভিজ্জ তেলের দাম বেড়ে গিয়ে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েলের চাহিদা বেড়েছে। আর এই বায়োফুয়েল তৈরিতে সয়াবিন কিংবা পাম অয়েলের মতো তেলসমৃদ্ধ উদ্ভিদের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় তা ভোজ্যতেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
তবে যুদ্ধজনিত বিশৃঙ্খলা থাকার পারও কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান তিনি। তোরেরো বলেন, গত মৌসুমের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় খাদ্যশস্যের দাম সামান্যই বেড়েছে।
মূল্য সূচকের চিত্র:
বিশ্ববাজারে কেনাবেচা হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামা পরিমাপকারী ‘এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ বা মূল্য সূচক এপ্রিলে টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্ট, যা গত মার্চ মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
উল্লেখ্য, ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের মার্চে এই সূচক সর্বোচ্চ ১৬০ দশমিক ২ পয়েন্টে উঠেছিল।
এপ্রিল মাসে ভোজ্যতেলের মূল্য সূচক ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। মূলত সয়াবিন, সূর্যমুখী, রেপসিড এবং পাম অয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
অন্যদিকে, গম ও ভুট্টার মতো শস্যের দাম মার্চ থেকে মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের তুলনায় দাম মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ, সারের দাম এবং বায়োফুয়েলের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।
ওদিকে, মাংস ও অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, ব্রাজিলে জবাইযোগ্য গবাদি পশুর সংকটে এপ্রিলে মাংসের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিপরীতে ব্রাজিল, চীন ও থাইল্যান্ডে পর্যাপ্ত সরবরাহের পূর্বাভাসের পর চিনির দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আলাদা এক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস কিছুটা বাড়িয়ে রেকর্ড ৩০৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে, যা এর আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।
তবে সারের উচ্চমূল্যের কারণে ২০২৬ সালে গমের চাষ কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরটিভি/কেডি