বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০৫:৫৫ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে আরও নিচে নেমে এসেছে সোনার দাম। মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার দ্রুত কমানোর সম্ভাবনা অনেকটা কমে গেছে। এ প্রেক্ষিতেই সোনায় বিনিয়োগে এই মুহূর্তে আগ্রহ হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে তাদের।
বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ বিকেল ৩টা ৪৬ মিনিটে স্পট মার্কেটে আউন্স প্রতি ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৯৪ দশমিক ৫৯ ডলার দাঁড়ায় সোনার দাম। অন্যদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৪০ ডলার। খবর রয়টার্সের।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনভো বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ফেডারেল রিজার্ভ আরও দীর্ঘ সময় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে, যদিও নীতিগতভাবে শিথিলতার প্রবণতা থাকবে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম সম্ভবত সীমিত পরিসরে ওঠানামা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য সোনার বাজারকে প্রভাবিত করবে। যদি প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যায়, তাহলে তা সোনার জন্য সহায়ক হবে।’
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সোনার দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কা এ পতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। যদিও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ ধরা হয়, তবুও উচ্চ সুদের হার সাধারণত সুদবিহীন এই সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
সোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কমে গেছে অন্যান্য ধাতুর দামও। এর মধ্যে, রুপার দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৬ দশমিক ৬১ ডলারে নেমে এসেছে। আর প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ২ হাজার ১২৩ দশমিক ৮০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮৯ দশমিক ১৮ ডলার হয়ে গেছে।
এদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
আরটিভি/এসএইচএম