বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৭:০৭ পিএম
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চাল, ডাল, তেলসহ অন্তত ২৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব পণ্যের স্থানীয় সরবরাহের ওপর উৎসে করের হার বর্তমান ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললে এই প্রস্তাব আগামী জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
কর বাড়তে পারে যেসব পণ্যে
এনবিআরের প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, লবণ, চিনি ও বিভিন্ন ধরনের ফল। এ ছাড়া আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা এবং বিভিন্ন মসলাও এই কর বৃদ্ধির আওতায় আসতে পারে। পাশাপাশি ধানের কুড়া, বীজ, সরিষা ও পাটজাত পণ্যেও কর বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, আমদানি হ্রাস ও করজাল সীমিত থাকায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যমান খাতগুলো থেকেই বাড়তি রাজস্ব সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই খাতে কর বাড়ালে বছরে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব। তবে মজার বিষয় হলো, বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান নিজেই কয়েক বছর আগে নিত্যপণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এখন রাজস্বের চাপে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে কর দ্বিগুণ করার পথে হাঁটছে সংস্থাটি।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরবরাহ পর্যায়ে কর বাড়ানো হলে তার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে। কারণ ব্যবসায়ীরা এই করকে খরচ হিসেবে গণ্য করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় নতুন করে করের বোঝা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, এনবিআর থেকে একবার টাকা গেলে তা ফেরত পাওয়া কঠিন। তাই ব্যবসায়ীরা এই করকে খরচ হিসেবেই ধরবেন, যা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে।
বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু নিত্যপণ্য নয়, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা এবং উপজেলা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া কোমল পানীয়, আইসক্রিম ও প্রসাধনী পণ্যে ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়তে পারে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের ওপর নতুন করে কর আরোপের চিন্তাও করছে সরকার।
আরটিভি/এআর