শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ১১:০২ এএম
দেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অনিশ্চয়তা, ঋণ কেলেঙ্কারি, আমানত ফেরত না পাওয়া এবং কিছু ব্যাংকে আর্থিক চাপের গুঞ্জনের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা কিছুটা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কিছু ব্যাংকের শাখায় লেনদেন সীমিত হওয়া বা অনিয়মের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফলে অনেক গ্রাহকেরই এখন একটাই প্রশ্ন—কোন ব্যাংকে টাকা রাখলে তা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকবে?
২০২৪ সালের বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণ ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নে স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতার ভিত্তিতে কিছু বেসরকারি ব্যাংককে শীর্ষ অবস্থানে রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।
এর পরের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে জায়গা পেয়েছে—
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ব্যাংকিং কার্যক্রমে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে আরও কয়েকটি ব্যাংক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। কারণ প্রয়োজন হলে সরকার সরাসরি সহায়তা প্রদান করে। উচ্চ মূল্যস্ফিতীর সময়ে সঞ্চয় করা কঠিন হলেও ছোট অংকের নিয়মিত সঞ্চয় ভবিষ্যতে বড় অংকে পরিণত হতে পারে। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক তুলনামূলক নিরাপদ ধরা হয়।
এদিকে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে বিভিন্ন ব্যাংকের ডিপিএস ও সঞ্চয় স্কিমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণ হিসেবে রূপালী ব্যাংকের আরডিপিএস-৩ স্কিমে (রূপালী ডিপোজিট পেনশন স্কিম-৩) মাসে ৫ হাজার টাকা জমা রেখে ১০ বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। যদিও এ ধরনের স্কিমে মূলধন নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও মুনাফার হার বাজারভিত্তিক বিনিয়োগের তুলনায় কম হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে মানুষ শুধু মুনাফার দিকে নয়—বরং টাকার নিরাপত্তা, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত লেনদেন সুবিধাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
আরটিভি/জেএমএ