বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০২:০৬ পিএম
সরকার নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই শ্রেণির কর্মীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে আবারও মূল বেতনের ওপর সমপরিমাণ সমন্বয় যুক্ত হবে। ফলে দুই বছরের মধ্যেই মূল বেতনের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ প্রণোদনাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এসব সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যমান ভাতা ও সুবিধাগুলো বহাল থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তার মতে, গত কয়েক বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট হয়নি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে একবারে বড় আকারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সরকারের জন্য কঠিন।
অন্যদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা মাথায় রেখে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা একটি কৌশলী পদক্ষেপ।
জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সমন্বিত নির্দেশনা আসতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপারিশ অনুমোদনের পর জানা যাবে।
কমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়েও সুপারিশ থাকতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর আসছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৭৫ শতাংশ। ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে পেনশনভোগীদের জন্য কতটুকু সুবিধা কার্যকর করা হবে, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
আরটিভি/এসকে