সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ , ০৫:০৮ পিএম
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘সম্ভাবনাময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, টেকসই বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির ধারা স্থিতিশীল থাকলে আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি কিছুটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তবে বিনিয়োগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী বছরগুলোতে কমপক্ষে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ যদি ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৬ শতাংশ প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে, তাহলে ২০৩০-এর দশকের শুরুতেই অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।’
এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন।
দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত সম্পর্কে নিজের দেওয়া পূর্বাভাসের ব্যাখ্যায় ড. এনামুল বলেন, মূল্যস্ফীতিসহ বাংলাদেশের নামমাত্র প্রবৃদ্ধি বছরে প্রায় ১২ শতাংশ থাকতে পারে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।
বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
তিনি বলেন, ‘সরকার একা এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। এতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও প্রকৃত বিনিয়োগ অপরিহার্য।’
ড. এনামুল আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। দেশের প্রতিটি জেলার উন্নয়নের সমান অধিকার রয়েছে।’
তার মতে, রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে এবং সারাদেশে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নগর পরিকল্পনার উন্নয়ন ও রাজধানীর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে ড. এনামুল বলেন, অর্থবহ পুনরুদ্ধারের জন্য আর্থিক খাত ও সুশাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আইনের শাসন বজায় থাকলে ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত হলেই পুঁজিবাজার সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
সাক্ষাৎকারের শেষে ড. এনামুল হক বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রধানত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
আরটিভি/ এসকেডি