images

অর্থনীতি

অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন পে-স্কেল নিয়ে মিলল বড় সুখবর

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ১১:০১ এএম

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই কর্মচারীদের জন্য একটি বড় সুখবরের আভাস মিলেছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দের চাপটি বিবেচনায় নিয়ে এই কাঠামো একবারে নয়, বরং মোট তিন ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের পাশাপাশি একধরনের তীব্র প্রচ্ছন্ন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

কর্মচারীদের একাংশের দাবি, নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই গণমাধ্যমনির্ভর। অর্থ মন্ত্রণালয়, পে কমিশন কিংবা নীতিনির্ধারণী মহলের শীর্ষ স্তর থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি।

প্রস্তাবিত মহা-পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি বিশাল অংশ, যা সম্ভাব্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি মূল বেতনটুকু সমন্বয় করা হবে। আর শেষ বা তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য সব ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় এনে পূর্ণতা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
ps_20260531_204502771

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন শঙ্কা!

নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান বর্তমানের ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার জোরালো প্রস্তাব করা হয়েছে। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ এসেছে। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেডভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টি এখন টেবিলের মূল আলোচনায় রয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের এই সুফল শুধু বর্তমানের সক্রিয় চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী প্রবীণ মানুষও এর আওতাভুক্ত হতে যাচ্ছেন। এর ফলে বিশেষ করে যারা অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণ পেনশন পান, তাদের আর্থিক নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে এবং কতটুকু যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একটি বিশেষ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি এখন নিরলস কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও নীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী, প্রবীণ পেনশনভোগী এবং মাঠপর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক ও জীবনযাত্রার মানের একটি দৃশ্যমান উন্নতি ঘটতে যাচ্ছে।

আরটিভি/এআর