images

অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে আরও কমলো সোনার দাম, কমতে পারে দেশেও!

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০৮:৫৮ এএম

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আরও কমে ছয় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে এবং শিগগিরই সোনার দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনের শুরুতে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২১ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছায়। প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৮৭ ডলারে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার মূল্যও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়ায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পায়।

তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর উচ্চ সুদের হার সাধারণত সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা তখন বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। ফলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এদিকে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যা ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

অন্যদিকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের খনি খাতেও উৎপাদন বৃদ্ধির খবর এসেছে। দেশটির খনি মহাপরিচালক জানিয়েছেন, বিদ্যমান খনিগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সোনা উৎপাদন ২০২৫ সালের ৫৯ দশমিক ৩৩ টন থেকে ২০২৬ সালে ৬২ মেট্রিক টনে উন্নীত হতে পারে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৬ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২২৫ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন
gold_20260606_084255399

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

বিশ্ববাজারে সোনার দামের ধারাবাহিক পতনের ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিগগিরই দেশীয় বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


আরটিভি/এসকে