images

অর্থনীতি

লিটারে ৫০০ টাকা বাড়বে দেশি মদের দাম

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০৭:৩২ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত মদের ওপর নতুন করে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করেছে সরকার। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি উৎপাদিত প্রতি লিটার মদের দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থবিলে ভ্যাট আইনের তৃতীয় তফশিলও সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এই কর কাঠামো অনুযায়ী, কেরুর উৎপাদিত দেশি ও বিদেশি—উভয় ব্র্যান্ডের মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা করে সুনির্দিষ্ট কর বসবে।

এখন নতুন করে কর যুক্ত হওয়ার ফলে কেরুর মদের দাম লিটারে একলাফে ৫০০ টাকা বেড়ে যাবে। ফলে দেশি মদের সেবনকারীদের আগের তুলনায় বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

আরও পড়ুন
140

নারীদের জন্য চালু হচ্ছে পিংক বাস: অর্থমন্ত্রী

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

আরটিভি/ এসকেডি