images

অর্থনীতি

শুল্ক বৃদ্ধি: বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি প্রায় বন্ধের পথে

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ১১:৪৬ পিএম

নতুন অর্থবছরের বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে। কয়েকদিন আগেও যেখানে প্রতিদিন ভারত থেকে আসা মাছবোঝাই ট্রাকের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো, সেখানে এখন অনেকটা নীরবতা। আমদানিকারকরা বলছেন, বাড়তি শুল্কের কারণে ব্যবসা অলাভজনক হয়ে পড়ায় অনেকেই আপাতত মাছ আমদানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। ফলে বাজারে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কেজিপ্রতি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজেট ঘোষণার পরের দিন থেকে নতুন মূল্যে কর আদায় শুরু করেছে কাস্টমস।

আরও পড়ুন
11

নবম পে-স্কেলে যে গ্রেডের ভাতা বাড়ছে পাঁচ গুণ


 
মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, দেশে ভারতীয় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। এ কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম আরও বাড়বে।
  
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে আমদানি কমে গেলে রাজস্ব ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
এদিকে মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ায় দুই দিন ধরে মাছবোঝাই কোনো ট্রাক লোড করা হয়নি। 

এ নিয়ে ট্রাকচালকরাও মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন
12

দেশের রিজার্ভ আরও বাড়ল 


 
বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন,  ট্রাকের পণ্যের ওজনের বদলে চাকার সংখ্যার উপর শুল্ককর নির্ধারণ করায় মাছ আমদানি কমেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুল্কহার যদি পুনর্বিবেচনা না করা হয় তবে আমদানি আরও কমে যাবে। আর এর প্রভাব বাজার, ব্যবসা ও সরকারের রাজস্ব আয়ে স্পষ্টভাবে পড়বে।
  
বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বাজেটের পর থেকে মাছ আমদানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আরটিভি/এমএম