images

অর্থনীতি / আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ১১:১০ পিএম

ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতিগত অবস্থান এবং শক্তিশালী ডলারের চাপে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন ঘটেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারকে নিম্নমুখী করেছে, যা পরোক্ষভাবে সোনার বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪৬ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে সোনার দাম ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে মার্কিন সোনার ফিউচার ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৬৪ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে।

জেনার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্রান্ট বলেন, বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ফেডের কঠোর নীতিগত অবস্থান। এর ফলে ডলারের দাম চলতি বছরের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা সোনার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

বুধবার(১৭ জুন) ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ৯ জন বছরের শেষ দিকে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে মত দিয়েছেন। ফেডের এই নীতি ঘোষণার পর মার্কিন ডলার সূচক (ডিএক্সওয়াই) বেড়ে এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারভিত্তিক সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার এখন আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ ধরে নিচ্ছে, যা ফেডের নীতি ঘোষণার আগে ছিল মাত্র ৬১ শতাংশ।

আরও পড়ুন
copy_20260301_110309975

বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্লেষকদের মতে, সোনা একটি অ-ফলনশীল সম্পদ হওয়ায় উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের কাছে এর আকর্ষণ কমে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছিল, যা সোনার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

এদিকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই দেশের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে তিনি আবারও হামলা শুরু করবেন এবং ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করবেন।

এই যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেশ কমেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার গত ২ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা ছিল ইরানের ওপর প্রাথমিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর প্রথম লেনদেন দিনের অবস্থান। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭১৮ দশমিক ২৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮৫ দশমিক ১০ ডলারে নেমে এসেছে।

আরটিভি/এআর